ATANKER TIN ANKA

240.00

মানালি, ছোটোর থেকে বড়ো হয়েছে ব্যস্ত মহানগরীর একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে। বাপিকে হারাবার পরে মা-ই ছিল তার পরিবার। চ্যাটার্জি আই এন্ড ও লিমিটেডে জয়েনের পরে তার জীবনে আসে প্রীতেন। প্রীতেন বয়সে হয়তো মানালির থেকে বেশ কিছুটা বড় ছিল। কিন্তু ওর স্নেহ আর যত্নে মানালি নিজের বাপির ছায়া খুঁজে পেত। ওতো বড়ো কোম্পানির মালিক প্রীতেনকে মনে মনে শ্রদ্ধা আর সম্মান করতে করতে কখন যে মানালি ভালোবেসে ফেলে!
একসময় প্রীতেনই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় মানালির বাড়িতে। মানালির মায়ের কাছে তো এতো বড়ো বাড়ি থেকে মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ আসাটা একেবারেই কল্পনাতীত ছিল। ওরা ভাবে এটা নিশ্চয় সেই ত্রিকালসিদ্ধ গুরুঠাকুরের ভবিষ্যদ্বানীর ফল। ছোট্টবেলায় মানালিকে যিনি রাজরানী হওয়ার আশীর্বাদ করে গেছিলেন। কিন্তু সাথে যে কিছু বিপদেরও আভাস দিয়েছিলেন বিয়ের আনন্দে সেটা বেমালুম ভুলে যায় মানালি। আর বিধির সেই লিখনই এতো বছর পরে ওর জীবনে অশনি ইঙ্গিত নিয়ে ফিরে আসে।
বিয়ের পরে কলকাতার ছোট্ট ফ্ল্যাট থেকে মানালি চলে যায় সুদূর ঈশানগড়ের বিশাল রাজবাড়িতে৷ প্রথম প্রথম রাজরানী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মানালি শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের মধ্যে তেমন কোনো অসংলগ্নতা খুঁজে পায়নি। কিন্তু এখানে আসার পর থেকেই মানালির প্রতিটা দিন বদলে যেতে থাকে। যেই বিশাল জমিদার বাড়ির নববধূ হয়ে ও পায়ের উপরে পা তুলে চাকরবাকরদের নির্দেশ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই বাড়িই ওর কাছে একসময় হয়ে উঠে একাকিত্বের মৃত্যুপুরী।
সারা সপ্তাহ প্রীতেন কলকাতাতে। আর প্রীতেনের জন্যে অপেক্ষা করতো মানালি ঈশানগড়ের রাজবাড়িতে। রাত্রির নিস্তব্ধ অট্টালিকা ওকে যেন রোজ গ্রাস করতে আসতো! সেই সাথে পাল্লা দিয়ে আসতো রোজ রাত্রে সেই বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন!
প্রতিদিনই রাজবাড়ির ঘড়িতে রাত্রি দশটার ঘন্টা পড়লেই মানালির মাথাতে ঝিম ধরতো! বালিশে মাথা না দিয়ে ও থাকতে পারতো না। আর ওর চোখ বন্ধ করার ঠিক পরেই স্বপ্নে আসতো ওই দুজন নরনারীর ছায়ামূর্তি। খয়েরি চাদর, ধূসর টুপি, লাল সবুজ চুড়ির রিনিঝিনি। ওরই ঘরের আলমারি খুলে রোজ ওরা কাঁচের একটা শিশি বের করতো। তারপর জোর করে মানালির হাত পা টেনে ধরে মুখে ঢেলে দিত বিস্বাদ নীলচে তরলটা।
ক্লান্ত ব্যথা ভরা শরীরে সকালে ঘুম ভাঙ্গতো মানালির। সারাদিন ও কি যেন ঘোরের মধ্যে কাটাতো! কিছুতেই বুঝতে পারতো না বারবার ওর একই দুঃস্বপ্নের মানে! অদ্ভূত ভাবে প্রীতেন যেদিন বাড়িতে থাকতো সেদিন ওর সাথে কিছুই ঘটতো না। আর প্রীতেনকে সবটা বলবার পরেও হেসে উড়িয়ে দিত। এদিকে প্রতি রাত্রেই স্বপ্ন আর সত্যির মধ্যে ব্যবধানটা যেন কমে আসছিল। তবে কি মানালির জন্যে ঈশানগড়ের বাড়িতে ভয়ঙ্কর কোনো বিপদ অপেক্ষা করেছিল? আর দুঃস্বপ্ন তারই আভাস!
মানালি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই ঈশানগড়ের রাজবাড়িতে? কেন ওর নিজেরই শোবার ঘরের বাতাসটা রাত্রি হবার সাথে সাথে ভারী হয়ে আসে? কেন ওর মনে হয় দুটো চোখ যেন সবসময় ওকে অনুসরণ করে চলেছে!
মানালি কলকাতা শহরে ছোটোর থেকে পড়াশোনা করেছে। কখনো কোনো কুসংস্কার বা অযৌক্তিক ভাবনা ওর মনে বাস করার সুযোগ পায়নি। প্রখ্যাত সাইক্রিয়ার্টিসও কি পারবেন মানালির বারবার আসা ওই দুঃস্বপ্নের কারণটা ব্যাখ্যা করতে! মানালির সমস্যাটা সত্যিই কি মানসিক ছিল নাকি এর নেপথ্যে ছিল ঈশানগড়ের কোনো অভিশপ্ত অধ্যায়!
স্বপ্নে যে ও ঠিক নিজের ঘরের প্রতিটা আসবাবকেই দেখতে পেত। নক্সা করা পুরোনো লোহার আলমারিটা থেকেই নীলচে তরলের শিশিটা প্রতি রাত্রে বের করতো ওই দুই ছায়ামূর্তি। গভীর রাত্রে ওর ঘরটা কিভাবে ধুনোতে ভরে যেত? মানালি কি পারবে ওই আলমারিটা খুলতে? কি আছে ওর ভিতরে?
প্রীতেনের সাথে মানালির অফিসে আলাপ, ওকে ভালো লাগা, ভালোবাসা, বিয়ে করে ঈশানগড়ে নিয়ে আসা সবই কি ও যেমনটা ওর চোখের সামনে দেখেছে তেমনই সোজা! নাকি প্রীতেন লুকিয়ে গেছে ওর জীবনের অন্য কোনো অতীত? ঈশানগড়ের রাজবাড়িতে কি চাপা আছে মানালির মতোই আরো অনেকের চাপা আর্তনাদ?
মানালি নিজেই চেষ্টা করতে থাকে এক এক করে প্রতিটা জট খোলার। কিন্তু প্রতিমুহূর্তেই যে বাধা! প্রীতেনের শ্বশুরবাড়ির সবাই ওর কাছে কি যেন জোর করে আড়াল করার চেষ্টা করছিল! কিন্তু সত্যি যে চাপাও থাকে না। একের পর এক রহস্য খুলতে খুলতে বেরিয়ে আসে পরী ওরফে পার্লিন গোমসের নাম। কে ছিল এই পরী! প্রীতেনের প্রাক্তন স্ত্রী নাকি গার্লফ্রেন্ড! নুপূরের ঝুমঝুম আওয়াজ মানালিকে কোন সত্যের কাছাকাছি পৌঁছে দিতে চেয়েছিল?
মানালির কাছে যখন ঈশানগড়ের রহস্য জটিল থেকে ক্রমশই জটিলতর হয়ে উঠছে তখনই ও দেখা পায় সেই অশরীরীকে। এবার আর দুঃস্বপ্ন নয়, একদম সামনাসামনি। ধোঁয়াশার আবছায়া বলয়ে শীতের এক রাত্রে মানালিকে সে কি যেন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে চায়! ঈশানগড়ের রাজবাড়ির মেয়ে কনকলতার সাথে অদ্ভূত ভাবে তার মুখের মিলও খুঁজে পায় মানালি। কিন্তু কনক যে বহুবছর ধরে আমেরিকা নিবাসী। তার কাছেও তার নিজের বাড়ি ঈশানগড় আতঙ্কের একটা অধ্যায় ছাড়া আর কিছু নয়! প্রতিমুহূর্ত জীবন মৃত্যুর সংশয় নিয়েও কি যেন টানে মানালি অপেক্ষা করতে থাকে সত্যিটা সামনে নিয়ে আসার! ওর মনে হতে থাকে কাকে যেন মুক্তি দিতে হবে এই অভিশপ্ত বাড়ি থেকে!
দেড়শো বছরের পুরোনো ঈশানগড়ের জমিদারবাড়িতে কোন কুহেলিকা বাসা বেঁধে আছে শেষ অবধি কি খুঁজে বের করতে পারবে মানালি? নাকি ও নিজেও হারিয়ে যাবে ঈশানগড়ের রাজবাড়ির অতীতের কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে!
টানটান রহস্য রোমাঞ্চে ভরা ঈশানগড়ের রুদ্ধশ্বাস কাহিনী পড়তে অবশ্যই আপনাকে পাড়ি দিতে হবে আতঙ্কের প্রথম অঙ্কে।

Author

Publisher

In stock

Description

Releasing on 27/02/2021

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “ATANKER TIN ANKA”

Your email address will not be published. Required fields are marked *